মাত্র একদিনের ব্যবধানে ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম ২,১২,১৪৫ টাকা। সোমবার (২ ডিসেম্বর ২০২৫) বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) নতুন দর ঘোষণা করেছে। এবারের বৃদ্ধি প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ১,৫৭৫ টাকা। ফলে সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম এখন দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১২ হাজার ১৪৫ টাকা। এই নতুন দাম মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর ২০২৫) থেকে সারা দেশে কার্যকর হয়েছে।
বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মনিটরিং স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি ডা. মো. দিলীপ কুমার রায় স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি (বুলিয়ন) সোনার মূল্য বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার জন্যই এই সমন্বয় করা হয়েছে। বর্তমানে বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৩,২২২ মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে যা গত কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি।

বাংলাদেশে আজকের স্বর্ণের দাম (৩ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে কার্যকর)
| ক্যাটাগরি | প্রতি ভরি দাম (টাকা) | গতকালের দাম | বৃদ্ধির পরিমাণ |
| ২২ ক্যারেট (হলমার্ক) | ২,১২,১৪৫ টাকা | ২,১০,৫৭০ টাকা | +১,৫৭৫ টাকা |
| ২১ ক্যারেট | ২,০২,৪৯৯ টাকা | ২,০১,০৩৯ টাকা | +১,৪৬০ টাকা |
| ১৮ ক্যারেট | ১,৭৩,৫৭২ টাকা | ১,৭২,৩১৭ টাকা | +১,২৫৫ টাকা |
| সনাতন পদ্ধতি | ১,৪৪,৪২৪ টাকা | ১,৪৩,৩৭৪ টাকা | +১,০৫০ টাকা |
রুপার দাম অপরিবর্তিত
সোনার দাম বাড়লেও রুপার দামে কোনো পরিবর্তন হয়নি। বর্তমান দর:
- ২২ ক্যারেট রুপা – ৪,২৪৬ টাকা
- ২১ ক্যারেট রুপা – ৪,০৪৭ টাকা
- ১৮ ক্যারেট রুপা – ৩,৪৭৬ টাকা
- সনাতন পদ্ধতির রুপা – ২,৬০১ টাকা
২০২৫ সালে স্বর্ণের দাম কেন এত বাড়ছে?
২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় ২৫ বারের বেশি স্বর্ণের দাম বেড়েছে বাংলাদেশে। এর পেছনে বৈশ্বিক ও স্থানীয় একাধিক কারণ রয়েছে:
- আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম ২০২৪ সালের শেষ থেকেই ঊর্ধ্বমুখী। ২০২৫ সালে এসে প্রতি আউন্স ৩,২০০ ডলারের গন্ডি পেরিয়েছে। এর ফলে আমদানিকারকদের খরচ বেড়েছে।
- বাংলাদেশে ডলারের দাম এখন ১২০ টাকার ওপরে। স্বর্ণ আমদানি করতে গেলে বেশি টাকা খরচ হচ্ছে।
- চীন, ভারত, তুরস্ক, পোল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ বাড়াতে রেকর্ড পরিমাণ স্বর্ণ কিনছে। এতে চাহিদা বেড়েছে।
- রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা, তাইওয়ান ইস্যু – এসব কারণে বিনিয়োগকারীরা ‘সেফ হ্যাভেন’ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন।
- যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার কমার সম্ভাবনা থাকায় স্বর্ণের আকর্ষণ বেড়েছে।
বিয়ের মৌসুমে ক্রেতাদের দুশ্চিন্তা
ডিসেম্বর-জানুয়ারি বাংলাদেশে বিয়ের পিক সিজন। এ সময় গয়নার চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে। কিন্তু স্বর্ণের দাম এভাবে বাড়তে থাকলে অনেক পরিবারের বাজেটে চাপ পড়ছে।
উদাহরণ:
- ১০ ভরি গয়না কিনতে এখন লাগবে প্রায় ২১ লাখ ২১ হাজার টাকা (২২ ক্যারেট)
- এক বছর আগেও এই খরচ ছিল ১৬-১৭ লাখ টাকার মধ্যে।
অনেকে এখন ২১ ক্যারেট বা ১৮ ক্যারেটের দিকে ঝুঁকছেন। আবার কেউ কেউ ডায়মন্ড বা প্লাটিনামের দিকেও যাচ্ছেন।
বিনিয়োগকারীদের জন্য সুযোগ না ঝুঁকি?
যারা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের কথা ভাবছেন, তাদের জন্য স্বর্ণ এখনো আকর্ষণীয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২৬ সালের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম ৩,৫০০ ডলার পর্যন্ত যেতে পারে। তবে স্বল্পমেয়াদে দাম কিছুটা কমতেও পারে।
ক্রেতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
সবসময় হলমার্ক যাচাই করুন
- বাজুসের সদস্য প্রতিষ্ঠান থেকে কিনুন
- বিল ও ওয়ারেন্টি কার্ড সংগ্রহ করুন
- ওজনে কারসাজি এড়াতে নিজে ওজন করে নিন
- দাম বেশি হলে কিস্তিতে কেনার সুযোগ নিতে পারেন
আগামী দিনে কী হতে পারে?
বিশ্লেষকদের মতে, যতদিন না ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা কমছে এবং ডলারের দাম স্থিতিশীল হচ্ছে, ততদিন স্বর্ণের দাম কমার সম্ভাবনা খুবই কম। বরং আরও বাড়তে পারে। তবে যদি যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বাড়ে কিংবা যুদ্ধাবস্থা কমে, তাহলে কিছুটা সংশোধন হতে পারে। সার্বিকভাবে স্বর্ণের এই ঊর্ধ্বগতি সাধারণ ক্রেতাদের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হলেও বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি একটি সুবর্ণ সুযোগ। আপনি যদি বিয়ের গয়না কিনতে চান তাহলে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিন, কারণ দাম আরও বাড়ার সম্ভাবনাই বেশি।

